এটুআই বিলে কোম্পানি গঠনের অনুমতি ফিরিয়ে নেয়ার দাবি পাঁচ সংগঠনের

১০ জুলাই, ২০২৩ ১৭:১৭  

সদ্য সংসদে পাশ হওয়া এটুআই বিল ২০২৩ বেসরকারি খাতকে সরকারের সঙ্গে সরাসরি অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি করা হয়েছে মন্তব্য করে আইনে কোম্পানি গঠনের অনুমতি ফিরিয়ে নেয়ার জোর দাবি জানিয়েছে তথ্য প্রযুক্তি খাতে পাঁচ সংগঠন।  

সোমবার বেসিস সম্মেলন কেন্দ্রে এজেন্সি টু ইনোভেট বিল ২০২৩ বিষয়ে আইটি ট্রেডবডি’র সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারীত্বের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবাই উপকৃত হবে বলে মত ব্যক্ত করা হয়।    

১৩ ধারার ১৮ উপধারা নিয়ে আলোচনার পর তিনটি বিষয়ে একমত হওয়ার পরও কেন ব্যবসায় না করা এবং পাঁচ সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব দাবি মেনে নেয়ার পরও কোম্পানি গঠনের বিষয়টিও আইনের সংশোধনী আনা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে একই বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক, বাক্কো সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ ও ই-ক্যাব সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল।   

তারা বলেছেন, আইন সব সময়ের জন্য। তাই আইনে এমন কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। এটা সরকার-বেসরকারি খাতকে মুখোমুখি করবে। এটা আনফেয়ার। এর কোনো প্রয়োজনই নেই তাই আমরা বিশ্বাস করি এটার সমাধান হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধন আইনে আনা হবে।

গত ১৮ জুন ২০২৩ তারিখে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ (সংসদ সদস্য), মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, আইসিটি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ৫টি বাণিজ্য সংগঠনের সভাপতিবৃন্দ আমন্ত্রিত হয়ে সভায় যোগদান করেন। 

এটুআই বিল ২০২৩ এর মোট ১৩টি ধারা ও ১৫টি উপধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বর্ণিত সভায় উপস্থাপনের জন্য দাখিল করা হয়। তন্মধ্যে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৩টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় ১. নির্বাহী কমিটিতে সকল আইসিটি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি রাখতে হবে [ধারা-৭]। ২. এটুআই কোনো প্রকার যৌথ বা অংশীদারী কারবারে অংশগ্রহণ করতে পারবে না [ধারা-১২ (ঘ)]। ৩. এটুআই কোম্পানি গঠন করতে পারবে না [ধারা ২১]।

কিন্তু, গত ৫ জুলাই ২০২৩ তারিখে জাতীয় সংসদে, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত এবং মাননীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মহোদয় কর্তৃক উত্থাপিত এটুআই বিল ২০২৩, পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত উপরোক্ত ৩টি সংশোধন প্রস্তাবের দুটি বিষয় বিবেচনা করা হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তথা, “এজেন্সি প্রয়োজন অনুযায়ী কোম্পানি গঠনের ক্ষমতা” [ধারা ২১] এখনো বিদ্যমান রয়েছে যা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী মহোদয় সবসময় বলে আসছেন – ‘সরকার ব্যবসা করবে না, ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ তৈরী করবে’। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অবস্থান সুদৃঢ় করতে ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ তৈরির কোনো বিকল্প নেই।

বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ তার বক্তেব্যে বলেন, “যদিও এজেন্সি টু ইনোভেট (এটুআই) ২০২৩ বিল নিয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আমরা সবগুলি অ্যাসোসিয়েশন প্রধান বেশ কয়েকবার বসেছি এবং ইন্ডাস্ট্রির সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলি সম্পর্কে লিখিত প্রস্তাব দিয়েছি৷ মহান জাতীয় সংসদে এটুআই বিল টি পাশ হলে আমরা তথা তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই ভীষণভাবে স্তম্ভিত হয়ে লক্ষ্য করলাম, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধারা, এটুআই কে কোম্পানি গঠনের ক্ষমতা দেয়ার ধারাটি রয়ে গেল। যার দ্বারা, এটুআই যেকোনো ধরনের কোম্পানি গঠন করে যেকোনো সেবা দিতে পারবে। এই ধারা-টি ইন্ডাস্ট্রির সাথে ভীষণভাবে সাংঘর্ষিক। এমতাবস্থায়, পাশকৃত এটুআই বিল ২০২৩ এর ২১ ধারায় বর্ণিত কোম্পানি গঠনের ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে রহিত করার পাশাপাশি অন্যান্য সাংঘর্ষিক ধারাসমূহে প্রয়োজনীয় সংশোধনপূর্বক বিলটি পুণর্মুদ্রণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।”

বাক্কো সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ বলেন, “আমরা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মিটিং এ উপস্থিত ছিলাম এবং দাবি গুলোর সাথে একমত এবং স্মার্ট বাংলাদেশের স্বার্থে এই ধারাটি বাতিল করে আইনটি সংশোধন প্রয়োজন। এই বিলটি সংশোধন করা এই শিল্পের উন্নয়ন কে গতিশীল রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ”    

আইএসপিএবি সভাপতি মোঃ ইমদাদুল হক বলেন, “পাশ হওয়া এটুআই বিল ২০২৩ অনুসারে সরকার ব্যবসার ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে বেসরকারি খাতকে সহযোগিতা করবে কিন্তু নিজে ব্যবসার অংশ হবে না। কিন্তু কোম্পানি গঠন করার সুযোগ থাকলে দুষ্ট কেউ এর অপব্যবহার করতে পারে। সেই সুযোগটা না থাকা উচিত।

ই-ক্যাব এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, আমরা এটুআই এর সঙ্গে কাজ করছি। আগামীতেও একসঙ্গে কাজ করতে চাই। তাই সব অ্যাসোসিয়েশনের সম্মিলিত দাবি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এবং আমাদের আইসিটি উপদেষ্টা শিঘ্রই সম্পাদন করবেন এটাই প্রত্যাশা।